নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। বিসিবি ও বাফুফেসহ দেশের শীর্ষ ক্রীড়া সংগঠনগুলোর পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমসহ ক্রীড়াজগতের তারকারা শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
শোক জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাকেব অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্তজাও।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শোক প্রকাশ করে মাশরাফী লেখেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা।’
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে মাশরাফী আরও লেখেন, ‘রাজনীতির পথচলায় দীর্ঘ লড়াইয়ে তার অবদান দেশের মানুষ মনে রাখবে। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন।’
এর আগে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ফেসবুকে শোকবার্তায় লেখেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ছয়টায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই শোকের মুহূর্তে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা।’
সাকিব আরও উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও অবদান রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা তার রুহের মাগফিরাত দান করুন। সকলের কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।’
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে নিউমোনিয়ার পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কারাগারে থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সালেক মূহিদের কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে নিজ বাড়ি ও নির্বাচনী এলাকা শ্রীপুরে ফেরার পথে নিজনান্দুয়ালী হাজরার মোড় নামক স্থান থেকে গ্রেপ্তার হন কুতুবুল্লাহ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন মিয়ার ছেলে।
কুতুবুল্লাহর ছোট ভাই শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ রাজন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে আমরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম, কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ কোনো মামলা ছাড়াই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। যে কারণে সোমবার অতি গোপনে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে রাজন বলেন, আমার বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। বড় ভাই ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে প্রায় দেড় যুগ ধরে আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বরং বিভিন্ন সময়ে দলটির দ্বারা আমি নির্যাতিত হয়েছি।
তিনি জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বড় ভাই কুটি মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রফেসর ড. সিরাজুল আকবরের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন জনগণ আমাদের পক্ষে ভোট দিলেও জয় ঘোষণা করা হয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নামে। আমাদের পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হয়েছি। আমার বড় ভাইও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও আমাদের নামে গত বছর মামলা দেওয়া হয়েছে। সেসব মামলায় জামিন পেয়েছি। তারপরও অন্যায়ভাবে ভাইকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে অতীতের মতো এবারও নির্বাচনি এলাকার মানুষ পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।