• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুধু পরিচিত মুখ নয়, বরিশাল সদর-৫ চায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাহসী নেতৃত্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ৩০, ২০২৫, ১৬:৩৫ অপরাহ্ণ
শুধু পরিচিত মুখ নয়, বরিশাল সদর-৫ চায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাহসী নেতৃত্ব।
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বিশেষ সাক্ষাৎকার |

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন যেমন উত্তাল, তেমনি সচেতন তরুণ সমাজের মধ্যেও নেতৃত্ব নিয়ে চলছে গভীর আলোচনাই।

সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় বরিশালের তরুণ সমাজের অন্যতম প্রতিনিধি ও সংগঠক,

বরিশাল হলিডে স্কুলের সাবেক সভাপতি নাছিমুন নাহার মিম্মি কথা বলেছেন ‘সদর-৫’ আসনের প্রত্যাশিত প্রার্থীর গুণাবলি, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি, এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয় রূপান্তর নিয়ে—

প্রশ্ন: আপনার দৃষ্টিতে আগামী নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনের প্রার্থীর মধ্যে কী কী গুণাবলি থাকা প্রয়োজন?
নাছিমুন নাহার মিম্মি: আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি—প্রার্থীটি সমাজের পরিবর্তন চাইছেন কি না, নাকি কেবল স্থিতাবস্থাই রক্ষা করতে চান। জনগণ আজ এমন একজনকে চায় যিনি শিক্ষিত, সৎ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং সবচেয়ে বড় কথা—এই এলাকার pulse বোঝেন। বরিশাল সদর-৫ শুধু একটি শহরকেন্দ্রিক আসন নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক হৃদস্পন্দন।

তাই এখানে কোনো পরীক্ষিত ব্যর্থতা, আত্মসন্তুষ্ট রাজনীতি কিংবা আঠালো স্লোগান দিয়ে আর ভোট আদায় সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কী কী দিকগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
মিম্মি: আমি মনে করি, দলগুলোকে এবার সত্যিই জনগণের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে। মনোনয়ন দেওয়ার সময় তিনটি স্তরের যাচাই হওয়া দরকার—
১. ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও শিক্ষা: প্রার্থীটি নিজের জীবনে কী অর্জন করেছেন, তার চিন্তার গভীরতা কতটা।

২. দলীয় অবদান ও রাজপথের অভিজ্ঞতা: দুঃসময়ে ছিলেন কি না, দলীয় আদর্শকে কিভাবে বহন করেছেন।

৩. জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা: তিনি কি শুধু দলীয় কর্মীদের চেনেন, নাকি পাড়া-মহল্লার সাধারণ মানুষও তাকে বিশ্বাস করে?

বরিশালকে যারা গভীরভাবে বোঝেন, যারা এখানকার ঘাট-বাজার, শিক্ষাঙ্গন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, সেইরকম লোকদেরই সুযোগ দেওয়া উচিত। শুধু ঢাকায় থাকলে বা জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় থাকলেই বরিশালের নেতৃত্ব দেওয়া যায় না।

প্রশ্ন: আপনি নিজেও তরুণ নেতৃত্ব গঠনে কাজ করছেন। আপনি কি মনে করেন, তরুণদের জন্য রাজনীতিতে জায়গা তৈরি হচ্ছে?
মিম্মি: আমি বলব—একটু একটু করে হলেও জায়গা তৈরি হচ্ছে, তবে সেটা অনেক বেশি হওয়া দরকার। তরুণরা এখন রাজনীতিকে চিন্তাশীলভাবে দেখছে। তারা বুঝতে শিখেছে—রাজনীতি মানে শুধু ব্যানার-ফেস্টুন না, বরং নীতিনির্ভর নেতৃত্ব গঠন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বাস্তবতা বোঝে, তবে তাদের উচিত হবে এক্ষুনি তরুণদের উপযুক্ত স্থান দেওয়া। বয়স নয়, চিন্তা ও কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব বাছাই করতে হবে।

আর তরুণ নেতৃত্ব মানেই শুধু বয়সে তরুণ নয়—তিনি হোন চিন্তায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং সাহসে তরুণ। যিনি প্রযুক্তি বোঝেন, তরুণদের চাওয়া বোঝেন, এবং যিনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হতে পারে—তা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।

প্রশ্ন: অনেকেই বলেন, মনোনয়ন অনেক সময় জনসম্পৃক্ততা বিবেচনায় না এনে দলীয় বলয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
মিম্মি: সেটাই সবচেয়ে দুঃখজনক দিক। আমি জানি, দলের ভেতরের বলয়ের কারণে অনেক সময় ত্যাগী কর্মী বাদ পড়ে যান, আর সুবিধাবাদীরা সুযোগ পেয়ে যান। এতে দীর্ঘমেয়াদে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এবার যদি জনগণের পছন্দকে সম্মান না করা হয়, তবে সেটি শুধু ওই প্রার্থী নয়, গোটা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি যদি মনোনয়ন বোর্ডে থাকতেন, সদর-৫ এর প্রার্থীর ক্ষেত্রে কোন ৩টি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন?
মিম্মি:
১. শিক্ষা ও প্রজ্ঞা—সে যেন সমাজ, রাষ্ট্র এবং সময়ের চাহিদা বুঝে কথা বলতে পারেন।
২. রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা—সে যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন।
৩. মানবিকতা ও নৈতিকতা—নেতৃত্বের আসনে বসলে যেন অহংকারে ডুবে না যান, বরং আরও মানবিক হন।

প্রশ্ন: বরিশালের তরুণদের জন্য আপনার বার্তা কী হবে এই নির্বাচনী সময়ে?
মিম্মি: আমি বলব—তোমাদের ভবিষ্যৎ অন্য কেউ গড়ে দেবে না। সিদ্ধান্তের সময় এখন। কোনো ভুল নেতৃত্ব যেন আবার চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। যিনি তোমার পাশে ছিলেন, থাকবেন এবং তোমার স্বপ্ন বোঝেন—তাকে সামনে আনতে হবে। তরুণরা চাইলে সবকিছু বদলাতে পারে।

এই সময় রাজনীতিকে ঘৃণা নয়, দায়িত্ব নিয়ে অংশ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রশ্ন করতে হবে, সমালোচনা করতে হবে, কিন্তু সেই সঙ্গে দায়িত্বও নিতে হবে।