ভোররাতে ঘুম, ১২ ঘণ্টা পর দরজা ভেঙে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত March 3, 2026, 18:25 PM
ভোররাতে ঘুম, ১২ ঘণ্টা পর দরজা ভেঙে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ময়মনসিংহে ভোররাতে ঘুমানোর পর না ওঠায় ১২ ঘণ্টা পর দরজা ভেঙে সোহান (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সোহান নগরীর বেসরকারি একটি কলেজের দ্বিতীয বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেরার বাসিন্দা। সোহান নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্র মেসে থেকে লেখাপড়া করেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে আইএনবি২৪ ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এরপর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে, সোমবার (২ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্র মেসের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছাত্র মেসে শিক্ষার্থীরা দরজা ধাক্কাকে ধাক্কাতে সহপাঠীকে ডাকতে থাকে। কিন্তু তার কোনো সাড়া মেলেনি। এমতাবস্থায় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বাসার দরজার সামনে ও নিচে ভিড় জমায়।

স্থানীয়রা অনেক ডাকাডাকি করে। কিন্তু কিছুতেই তার সাড়া মিলছিল না। পরে স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাডাকি করে। তবে কোনো সাড়া না মেলায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে তোলে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্র মেসে একটি ছেলে ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েন। তার সহপাঠীরা না ঘুমিয়ে বাইরে চলে যায়। এমন সময় সোহান ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে সকালে সোহানের সহপাঠীরা এসে অনেক ডাকাডাকি করে। তবে, তার সাড়া মেলেনি।

বিষয়টি আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষজন ভিড় জমাতে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ১২ ঘণ্টা পর সোহানকে দরজা ভেঙে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি সারারাত না ঘুমিয়ে ভোররাতে ঘুমায়। যে কারণে অনেক ডাকাডাকি করলেও সে টের পায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। ছেলেটি এখন সুস্থ আছে।