নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: রাজধানীর ভাটারা ও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১,২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার এবং পাঁচ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিসি মিডিয়া) তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান। ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে জব সংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণা সংক্রান্তে ডিএমপি, ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার ও ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ থেকে পাওয়া অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়।
ওই প্রতারক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগরীর ভাটারা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণায় জড়িত মো. নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের সর্বমোট ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দুইটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
মামলাটির নিবিড় তদন্তে জানা যায়- রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের আরও অনলাইন প্রতারক চক্র রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ০৯ নম্বর সেক্টর থেকে পাঁচজন বিদেশি নাগরিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের ১৮৪টি সিম, পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি সাইবার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। গ্রেপ্তারকৃত নিয়াজ ও হাসান জয়কে আগেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।