• ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় সাত দিনেও জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি ভিজিএফের চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৬, ২০২৬, ১৩:৫০ অপরাহ্ণ
ভোলায় সাত দিনেও জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি ভিজিএফের চাল
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ফলে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার সাতদিন পার হয়ে গেলেও জেলেদের কাছে পৌঁছেনি ভিজিএফের চাল। আর ওই চাল না পেয়ে রমজানের মধ্যে কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।

ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে কদিন আগেও ট্রলার, নৌকা ও জালসহ মাছ শিকারের উপকরণ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত জেলেরা। আজ নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মৎস্য ঘাটে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়েছে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে।

ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ভোলার ১৯০ কিলোমিটার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ নিষেধাজ্ঞা। তাই কেউ কেউ নদীর তীরে বসে জাল মেরামত করছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কারো নেই কোনো আয়-রোজগার।

শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার জেলে মো. সাদ্দাম মাঝি জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আজ সাতদিন চলছে। আমরা জেলে এখন পর্যন্ত নদীতে গিয়ে মাছ ধরিনি। কিন্তু সরকারিভাবে চাল এখনও পাইনি।একই এলাকার মো. শাজাহান মাঝি ও মাকসুদ মাঝি জানান, সাত দিন চলে গেছে। এখনও চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। আমাদের তো কাজ-কাম নেই, রোজগারও নেই, এখন কী করব? রমজান মাস চলছে, তার মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এখন তো আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রাকিব মাঝি জানান, সরকারি অভিযান মেনে তারা নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিও থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ হয়নি। সমিতির লোকজন সকাল-বিকেল আসেন কিস্তির টাকা নিতে। আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো আয়-রোজগার নেই। এখনও যদি দুই মাসের কিস্তি আদায় বন্ধ না হয়, তাহলে কিস্তি পরিশোধের জন্য নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হবে।

ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. সুমন মাঝি জানান, ১০–১২ বছর ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা পরিচালনা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের জেলে কার্ড হয়নি। দুবার আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। এখনও কার্ড হয়নি। অথচ জেলে না হয়েও জেলে কার্ড করছে। তারা জেলেদের চালও পায়। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়ে আমাদের জেলে কার্ড নেই।

একই এলাকার জেলে আরিফ মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের নিষেধাজ্ঞার চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যাদের এখনও জেলে নিবন্ধন হয়নি তাদের যাতে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যারা জেলে না হয়ে জেলে কার্ড করে চাল নিচ্ছে, তাদের কার্ড বাতিল করা হোক।

ভোলা জেলা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। এ চার মাস প্রতি জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। আর জেলেদের নিবন্ধন হালনাগাদ চলছে। এতে অনিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জেলায় সাত উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। এ বছর জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ-এর চাল পাবেন প্রায় ৯০ হাজার ২০০ জন জেলে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবধরনের মাছ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য বিভাগ।