নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার জগতপুর গ্রামে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী তাজমিন আক্তার হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ (কারণ) অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং আটক হওয়া এক অটোচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কুমিল্লায় ময়নাতদন্ত শেষে তাজমিনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি যশোরে দাফন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানাবে জেলা পুলিশ।
ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের জানান, এলাকার লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি মাঠের পাশে গিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখেন। ওই অটোরিকশার আশেপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাজমিন ঘাতকদের কবল থেকে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ছোটাছুটি করেছিলেন।
জমির সেই চিহ্ন ধরে কিছুটা সামনে গিয়ে একটি ধানক্ষেতে তাজমিনের মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারের সময় তার মাথা কাদায় গোঁজা এবং পুরো শরীর বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। এছাড়া তার গলায় একটি গামছা প্যাঁচানো ছিল। স্থানীয়রা জড়ো হওয়ার পর একটি গামছা দিয়ে তার নগ্ন শরীর ঢেকে দেওয়া হয় এবং জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কল লিস্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার নতুন বা পুরাতন একাধিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ও পরে তাজমিনের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতে মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সুপারের বক্তব্য কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, “আমরা হত্যাকাণ্ডের মোটিভের বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি। আটক হওয়া অটোচালক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পর্যালোচনা এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তাদের আটকে অভিযান চলছে।”
তবে আটককৃত অটোচালক সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কিনা, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই স্পষ্ট করেনি পুলিশ। আজ শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে এলাকায় ঘরজামাই থাকা মো. সুমন নামের এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।