• ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ই-সিগারেট-ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, ৬ মাস জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১৮:৫৭ অপরাহ্ণ
ই-সিগারেট-ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, ৬ মাস জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন সংশোধনী আইন অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে আইন কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সব পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে, পাবলিক প্লেসে তামাক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে।

পূর্বে, এই জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা, যা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিধানটি সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন এবং প্রচারণা বিষয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন এবং তামাক পণ্যের প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই বিধানটি তরুণদের মধ্যে তামাকের প্রতি আগ্রহ কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা গ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশুপার্কের আশপাশে ১০০ মিটার রেডিয়াসে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিশেষভাবে শিশুরা ও তরুণদের ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে।

প্রধানত ই-সিগারেট এবং উদীয়মান তামাকপণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় এবং ব্যবহার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিধান লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। এ নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।

এর পাশাপাশি, কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটির মাধ্যমে বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে এবং এটি একটি একীভূত আইন হিসেবে কার্যকর হবে।

এই অধ্যাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আসক্তিমূলক দ্রব্যের মিশ্রণ নিষিদ্ধ করা। এখন থেকে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সাথে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এছাড়া, স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিংয়ের বিষয়েও নতুন নিয়মাবলী প্রবর্তিত হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫% জায়গা জুড়ে রঙিন ছবি এবং সতর্কবাণী প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ হবে, যা ধূমপান কমানোর এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ।