• ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে বরই চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১৪:০৭ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে বরই চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সারিবদ্ধ মাঝারি আকৃতির গাছে ভরা বরই বাগান। গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের সুস্বাদু বরই। এসব বরই শুধু ফল নয়, বরং এক নারীর স্বপ্ন, সাহস আর পরিশ্রমের সফল প্রতিফলন। পটুয়াখালীতে বরই চাষ করে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গৃহবধূ তাসলিমা বেগম।

তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর আগে পাশের পেয়ারপুর গ্রামে একটি বরই বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন তাসলিমা। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সেই বাগান ঘুরে দেখেন এবং তখনই সিদ্ধান্ত নেন নিজেও বরই চাষ শুরু করবেন। এরপর বাড়ির সামনে নদীর তীরবর্তী পতিত জমিতেই শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা।

যশোর থেকে থাই আপেল কুল, কাশ্মিরি আপেল কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের মোট ১০০টি কলম সংগ্রহ করে নদীর চরের জমিতে রোপণ করেন তিনি। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বড়ই বাগান থেকে ফলন পেতে শুরু করেন। অল্প সময়েই তিনি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

তাসলিমা বেগম বলেন, ‘প্রথমে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করি। সার, ওষুধ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে। প্রথম বছরে লাভ কম হলেও দ্বিতীয় বছরে প্রায় এক লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। আশা করছি, চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারব। এ বছর মোট খরচ হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। ধারণা করছি, বাকি সবটাই লাভ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বড়ই চাষে প্রথম বছরে খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তীতে তেমন খরচ লাগে না। একবার চারা রোপণের পর নতুন করে চারা লাগানোর প্রয়োজন হয় না। একই গাছ থেকে বারবার ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বড়ই ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, প্রতিটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি বরই পাওয়া যাবে, যা বিক্রির মাধ্যমে ভালো লাভ হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, তাসলিমা আপার গাছের বরই গুলো দেখতে খুবই ভালো লাগে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গার মানুষজন এখান থেকে বড়ই কিনতে আসেন। বড়ই গুলো খুবই মিষ্টি।

জানা গেছে, তাসলিমা বেগমের স্বামী ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী। এর আগে তাসলিমা নিজেও কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করতেন। বর্তমানে বাড়িতে থেকেই কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।

তাসলিমার সাফল্য দেখে গ্রামের অন্যান্য নারী-পুরুষরাও বড়ই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং নিজ নিজ জমিতে বড়ই চাষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘গত বছর উপজেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে বড়ই চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে ৪০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এখানে বরই কুল, আপেল কুল, বাউ কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের বড়ই চাষ হচ্ছে।

এ অঞ্চল বরই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে এলে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকি।’ িনারী উদ্যোক্তা তাসলিমা বেগমের এই সফলতা পটুয়াখালী অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।