• ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে জমি কেনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ২৩:৫২ অপরাহ্ণ
বরিশালে জমি কেনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় মামলা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বরিশালে জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডে। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম রেবা বেগম (৪০), তিনি শাহপরান সড়ক এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালামের স্ত্রী। মামলায় একই এলাকার ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে—মোঃ সোহেল (৪০), কালু (৩০), কবির (৪৫), রানা (২৫), মামুন (৩০) ও সুমন (২৩)।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি বাদী তাসলিমা বেগম রানুর কাছ থেকে সাব-কবালার মাধ্যমে প্রায় ৭.৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা বাদীর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে গত ১০ অক্টোবর ২০২৫, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাদী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।

 

প্রতিবাদ করতে গেলে বাদী ও স্থানীয়রাও হামলার শিকার হন। এসময় অভিযুক্ত সোহেল ও কালু বাদীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি কবির, রানা ও মামুন বাদীর মেয়ে সুমা আক্তারের গলা থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকামূল্যের স্বর্ণের চেইন খুলে নেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে প্রকাশ্যে জানায়—এগুলো পাঁচ লাখ টাকার চাঁদার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জমি নিয়ে কাজ করলে “খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে”—এমন হুমকিও দেওয়া হয় বলে বাদী অভিযোগ করেন।

 

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বাদী থানায় প্রতিকার চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

এদিকে এ বিষয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ সোহেল এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বিষয়টি নিয়ে পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।”

অন্যদিকে ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।