ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা এবং পরে মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বরিশাল। এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নগরী।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা বরিশালের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুসহ সনাতনী সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি পরিকল্পিত গুজব ছড়িয়ে একজন নিরীহ মানুষকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এমন নির্মম সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ভয়ংকর হুমকি।
বক্তারা আরও বলেন, দীপু ছিলেন তার দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার নির্মম মৃত্যুতে স্ত্রী ও অবুঝ শিশু সন্তানসহ পুরো পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বরিশাল জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি অসিত রায়ের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মহানগর সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দাস, আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুবাস দাস নিতাই, কমিউনিস্ট পার্টি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল মজুমদারসহ স্বপন কর, মিঠুন দত্ত, অনিক গোলদার, রাখি দাস, প্রান্ত দত্ত, অনিম বসু, চিন্ময় রায়, অয়ন চক্রবর্তী, অধ্যাপক দুলাল দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা ললিত দাস, জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি চন্দন কুমার দাস, সম্পাদক শুভ দাস কমল, আর্যলক্ষী সমিত, নন্দ দুলাল সাহা, তুষার সেন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা দোষীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযানে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ম অবমাননার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।