• ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে বৃদ্ধকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নারী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৫, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
পিরোজপুরে বৃদ্ধকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নারী!
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৩৫ বছরের এক নারীকে বিয়ের দাবিতে আবুল কাসেম মুন্সি নামে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধের অনশনকে কেন্দ্র করে গ্রামে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ৩৫ বছরের ওই নারী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বৃদ্ধের কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

‎শনিবার (১৬ আগস্ট) বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ঠুটাখালী গ্রামে অনশন করেন পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামের আবুল কাসেম মুন্সি। তার দাবি, প্রায় দুই মাস আগে পরিচয়ের পর ওই নারী বিয়েতে রাজি হয়ে তার কাছ থেকে ৩৫-৪০ হাজার টাকা নেন। পরে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অবশেষে আসল বাড়ি খুঁজে পেয়ে তিনি একটিই শর্ত দেন হয় টাকা ফেরত দেবে, নয়তো আমাকে বিয়ে করবে।

‎সরেজমিনে বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ঠুটাখালী গ্রামের ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটি কাঠের ঘরে মাহিনুর নামের ওই নারীর বসবাস। ঘরটিতে এখন তালা ঝুলছে। পাশেই রান্না ঘরে উনুনের উপরে রয়েছে একটি ফাঁকা পাত্র। বাইরে দড়িতে কয়েকটি জামাকাপড় টানানো। ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাহিনুর নামের ওই নারী।

‎গ্রামজুড়ে এ ঘটনার ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ওই নারী আগেও একাধিক পুরুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এভাবে প্রতারণা করতে দিলে আরও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার শাস্তি হওয়া দরকার।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আলফু শেখ বলেন, মাহিনুর আগেও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ওই বৃদ্ধের কাছ থেকে বিয়ের কথা বলে টাকা না নিলে তো আর তিনি বাড়ি আইসা বসতেন না। মাহিনুরের জন্য আমাদের পুরো এলাকার মানসম্মান গেছে আমরা এর সঠিক সমাধান চাই।

‎রাসেদা বেগম নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ওই নারী এর আগে আরও ৭ থেকে ৮টা বিয়ে করছে। এক স্বামী থাকতে আরেক জনের সঙ্গে বিয়ে করে। আমরা তার সঠিক বিচার চাই।মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল কাইয়ূম বলেন, আমি আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে এলাকার বিষয়টি শুনেছি। আমি ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছি।