বরিশালে নিখোঁজ সেই শিশু কক্সবাজারে উদ্ধার, পরিবারে স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৬, ২০২৬, ১৮:৩৯ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
মাহাদী হাসান: বরিশাল শহর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ শিশু শিক্ষার্থী সৌরভ দাসকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের চারদিনের মাথায় বুধবার সকালে তাকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কিছুটা বিলম্বে হলেও সন্তানের উদ্ধার খবব পরিবার-পরিজনদের স্বস্তি দিয়েছে, বিশেষ করে সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মা-বাবা অনেকাংশে দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতে শহরের ভাটিখানা এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় শিশু সৌরভ।
গত শনিবার রাতে খিচুড়ি খেতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সৌরভ। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা-খুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এই ঘটনায় একদিন বাদে রোববার সংশ্লিষ্ট কাউনিয়া থানা পুলিশে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এদিকে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষের ফেসবুক থেকে পোস্ট করা হলে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এবং এনিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলো একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হন্য হয়ে শিশুটির অনুসন্ধান শুরু করে।
পরিবারের লোকজনের অনুমান ছিল, শিশু সৌরভকে কেউ বা কারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এবং পরবর্তীতে তারা মুক্তিপণও দাবি করতে পারে, অবশ্য এর জন্য তার পিতা-মাতা প্রস্তুত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অবশ্য কাউনিয়া থানা পুলিশ এই বিষয়ে কোনোরূপ মন্তব্য না করে শিশুটিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, বরিশাল শহর থেকে শিশু সৌরভ কিভাবে কক্সবাজার গেল বা তাকে কারা নিয়ে যায় তা এখন রহস্যবৃত্ত।
ভুক্তভোগী শিশুটির ভাষায় পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সৌরভ মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলে খাবার অর্ডার করেছিল। পরে বাড়িতে ফেরার পথে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কাছে একটি কাগজে লেখা ঠিকানা দেখিয়ে কিছু জানতে চায়। এরপর তার আর কিছু মনে নেই। সেক্ষেত্রে পুলিশের প্রাথমিক ধারনা বা অনুমান, শিশুটিকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে প্রথমে অচেতন করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে নির্ধারিত কোনো গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু অপরাধীদের সেই ছকে জল ঢেলে দিয়েছে ফেসবুক এবং সংবাদমাধ্যমগুলো। ভিডিও-ছবিসংবলিত লেখালেখি সরগরম হয়ে ওঠে সমাজপাতা, যা গোটা দেশের পুলিশ বাহিনীকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার কর্মকর্তা এটিএম শিফাতুল মজুমদার মুঠোফোনে জানান, বুধবার খুব সকালে স্থানীয়রা ঈদগাঁও এলাকার ব্রিজের নিচে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরক্ষণে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার বাড়ি বরিশালে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ইতোমধ্যে বরিশালের কাউনিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এবং পরিবারের সদস্যদেরও কক্সবাজারে আসতে বলা হয়। পুলিশ এবং স্বজনেরা পৌছানোর পরেই শিশুকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, জানান ওসি।
বরিশালের কাউনিয়া থানা পুলিশের সন্জিত চন্দ্র নাথ জানান, শিশুটিকে আনতে তাদের পুলিশ কক্সবাজার গেছে। এর আগে তার সাথে কি হয়েছে, সেই বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয়। তবে শিশুটিকে আনার পরে তার বক্তব্য শুনলে পুরো ঘটনা বুঝতে সুবিধা হবে।’