বরিশাল, ২৯ জুলাই ২০২৫
বরিশাল-৫ (সদর) আসনকে ঘিরে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রতিযোগিতা দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সদর উপজেলা ও মহানগর নিয়ে গঠিত এ আসনটি শুধু বরিশালের নয়, বরিশাল বিভাগের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে যিনি মনোনয়ন পাবেন, তিনিই হয়ে উঠবেন বরিশালে দলের প্রধান মুখ।
স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১১টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে বিএনপি ৮ বার বিজয়ী হয়েছে বরিশাল-৫ আসনে। এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস, তার ছেলে নাসিম বিশ্বাস, এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয় পাওয়া অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আসন্ন নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন,
“দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণ প্রকৃত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”
এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন বিএনপির অপর উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
তিনি এলাকাভিত্তিক গণসংযোগ ও জনসেবামূলক কাজে যুক্ত হয়েছেন সম্প্রতি, যা তাকে আবার আলোচনায় এনেছে।
এছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকসহ আরও কয়েকজন নেতা রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়।
তবে এবার আলোচনায় আছেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন।
২০১৩ সাল থেকে দলের একাধিক কঠিন সময়ে জেলা ইউনিটকে সংগঠিত রেখেছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা ও হামলার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক শক্তিকে সক্রিয় রাখতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
দলের একটি অংশ মনে করে, ছাত্রজীবন থেকেই মাঠে থাকা এই তরুণ নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বেশি সক্ষম।
বরিশাল হলিডে স্কুলের সাবেক সভাপতি নাছিমুন নাহার মিম্মি বলেন,
“এই সময়ে প্রয়োজন সেই সুস্থ চিন্তার সাহসী তরুণদের—যারা ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠন গড়েছে, মাঠে আছে, এবং এখনো আগামী সম্ভাবনা।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন,
“নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরনো কাঠামো ভাঙার সাহস থাকতে হবে। দলীয় মনোনয়ন এমন নেতৃত্বের হাতেই তুলে দিতে হবে, যারা সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্বই হতে পারে জয়ের মূল চাবিকাঠি।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম-এর নাম ঘোষণা করেছে।
২০১৮ সালে তিনি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটের দিন হামলার শিকার হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল-কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং বরিশালে পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।
জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন তাপস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনিসুর রহমান স্বপন বলেন,
“বরিশাল-৫ শুধু একটি আসন নয়, এটি হচ্ছে বরিশাল বিভাগের নেতৃত্বের প্রতীক। সব দলই এখানে তাদের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে আনতে চায়। ফলে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াই দেখা যেতে পারে।”