বেওয়ারিশ কুকুরের দৌরাত্ম্যে জনজীবন বিপর্যস্ত, নিরাপত্তাহীন মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত August 28, 2026, 02:12 AM
বেওয়ারিশ কুকুরের দৌরাত্ম্যে জনজীবন বিপর্যস্ত, নিরাপত্তাহীন মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন শহর, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে দিন দিন বেড়ে চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। রাস্তা, বাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার আশপাশেও দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এসব কুকুর। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু, শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে স্কুল-মাদরাসায় যাতায়াতের সময় অনেক শিশু ও শিক্ষার্থী বেওয়ারিশ কুকুরের তাড়া ও আক্রমণের আতঙ্কে থাকে। কোথাও কোথাও দলবদ্ধ কুকুর পথচারীদের ধাওয়া করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু মানুষ নয় গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশুপাখিও এসব কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

সম্প্রতি এমনই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। দুইটি বেওয়ারিশ কুকুর একটি ছাগলকে আক্রমণ করে। পরে কুকুরগুলো ছাগলটিকে কামড়ে গুরুতরভাবে আহত করে এবং শেষ পর্যন্ত ছাগলটির মৃত্যু হয়। সিসিটিভির দৃশ্যটি দেখলে বোঝা যায়, প্রাণীটির ওপর কতটা ভয়াবহ আক্রমণ হয়েছিল। ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা সমাধানের নামে নির্বিচারে হত্যা বা নির্যাতনও কোনো সমাধান নয়। বাংলাদেশে প্রাণী কল্যাণ আইন ও আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনার আলোকে কুকুর ব্যবস্থাপনায় মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান ও নির্বীজন কার্যক্রম নিয়ে উচ্চ আদালতও বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিটি এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নির্ধারণ করে গণটিকাদান, নির্বীজন, অসুস্থ ও আক্রমণাত্মক কুকুর শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা চালু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় নিয়মিত কুকুরের আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় দ্রুত করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণ ও পশুচিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। খোলা জায়গায় খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে সেখানে কুকুরের খাবারের উৎস তৈরি হয়। তাই নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।

জনগণেরও রয়েছে দায়িত্ব। রাস্তায় খাবারের উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে না ফেলা, পোষা কুকুর দায়িত্বহীনভাবে রাস্তায় ছেড়ে না দেওয়া, শিশুদের একা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না পাঠানো এবং কোনো কুকুর অস্বাভাবিক আচরণ করলে স্থানীয় প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে খবর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কুকুরকে পিটিয়ে বা নির্যাতন না করে আইনসম্মতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মানুষের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি প্রাণীর প্রতিও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা নিয়ে আর সাময়িক আলোচনা নয়,প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক পরিকল্পনা।

প্রশ্ন এখন একটাই মানুষ ও প্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেবে?