বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: পিএ’র বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত April 16, 2026, 01:19 AM
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বরিশাল প্রতিনিধি।শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ-এ নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রিন্সিপালের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম মিরাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রিন্সিপালকে পাশ কাটিয়ে নিজেই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি প্রদান করছেন।
সূত্র জানায়, কলেজটির প্রিন্সিপাল মোঃ আনোয়ার হোসেন বাবলু একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তবে তার সরলতার সুযোগ নিয়ে পিএ তৌহিদুল ইসলাম মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে নিয়োগ ও বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, মেডিকেল কলেজ ও হোস্টেল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে প্রায় ১৬-১৭ জনকে অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, মোঃ কবির হাওলাদার, মোঃ টিপু হাওলাদার, মোঃ আবুল বাশার, মোঃ আল মামুন, রুনা হাওলাদার, মোঃ রুহুল আমিনসহ আরও অনেকে। এছাড়াও, মোঃ আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হোস্টেল থেকে কলেজে বদলির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এছাড়া কলেজের মেরামত কাজ, নতুন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রমও পিএ’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পিএ তৌহিদুল ইসলাম মিরাজ বরিশালের ধান গবেষণা রোডের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তার পারিবারিক প্রভাবও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে জানতে পিএ তৌহিদুল ইসলাম মিরাজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের দাবি, প্রিন্সিপাল মোঃ আনোয়ার হোসেন বাবলু এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবগত নন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বরিশাল মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তারা।
সচেতন মহলের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ ধরনের অনিয়মে জড়াতে না পারে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
(বিঃদ্রঃ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বক্তব্য পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।)