দুমকিতে খাল খননের এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত May 16, 2026, 14:06 PM
দুমকিতে খাল খননের এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি খালের এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করে ভোগদখলীয় রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে খাল খননের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

অভিযোগে বলা হয়, খালের জমির অবৈধ দখলদার হিসেবে পরিচিত একটি প্রভাবশালী পরিবার ঠিকাদারের যোগসাজশে সরকারি খালের নির্ধারিত অংশ পরিবর্তন করে অন্যের রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে খাল খননের চেষ্টা করছে। এতে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ করেন আবেদনকারী মো. আবুল কালাম মুন্সী।

গত বুধবার (১৬ মে) ইউএনও বরাবর দেওয়া অভিযোগে চরগরবদী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম মুন্সী জানান, এসএ ৩২১ ও ৩২৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দাগে মোট ৬৩৪ শতাংশ জমি তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। জমির মালিক হোসেন আলী মুন্সীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা ওই জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোগদখলীয় ৪৪৫৫ ও ৪০৭০ নম্বর দাগের পশ্চিম পাশে সরকারি খাল রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে সেই খাল খননের জন্য টেন্ডারও হয়েছে। কিন্তু সরকারি খালের পরিবর্তে এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করে তাদের জমির ওপর দিয়ে খাল কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মো. আবুল কালাম মুন্সী বলেন, আমরা খাল খননের বিরোধিতা করছি না। সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি খালের নির্ধারিত অংশে খনন কাজ করা হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে খাল খননের চেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।

এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করা হয়নি দাবি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত এসও মুহাইমিনুল ইসলাম আবির বলেন, কারও রেকর্ডিও জমিতে খাল খনন করা হচ্ছে না। আপত্তির যায়গা রেখে অপর প্রান্ত থেকে খনন করা হচ্ছে। সমঝোতার পরে উল্লেখিত স্থানে খাল কাটা হবে।

ঠিকাদার মো: মিলন মিয়া বলেন, উভয় পরিবার আমার আত্মীয় স্বজন বিধায় তাদেরকে উভয় পরিবারের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন  সিদ্ধান্ত দিতে বলেছি। কিন্ত মুন্সীবাড়ির লোকজন কোন সিদ্ধান্তই মানছে না।  এ বিষয়ে উপজেলার দায়িত্বরত ইউএনও রওজাতুন জান্নাত বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।